অনলাইন থেকে আয় করার উপায়- দেখে নিন ৭ ধরনের কাজ সম্পর্কে।

অনেকেই অনলাইন আয় বা অর্থ উপার্জনের উপায় খুঁজছেন। কেউ কেউ সামান্য অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের জন্য পার্ট টাইম জবের দিকে ঝুঁকছেন, আবার কেউ কেউ  ইন্টারনেটে ফুল টাইম কাজ করতে চান।

আসুন অনলাইনে অর্থ উপার্জনের সাতটি উপায় দেখে নেওয়া যাক যেগুলোকে আপনার আয়ের সম্পূরক উৎস হিসাবে ভাবতে পারেন-

এফিলিয়েট মার্কেটিং

এটি অনলাইনে অর্থ উপার্জনের জন্য তুলনামূলকভাবে একটি সহজ উপায় হতে পারে। এক্ষেত্রে বিক্রি করার জন্য আপনার নিজের কোনও পণ্য বা পরিষেবাদি থাকার কোনো দরকার নেই। এফিলিয়েট মার্কেটিং বরং আপনাকে বড় কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে কিছু কমিশন আয়ের সুযোগ করে দেয়।

আপনি আপনার ওয়েবসাইট/ব্লগ বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যাবহার করে এবং সেখানে কোম্পানির পণ্যগুলোর লিঙ্ক দিয়ে কোনও কম্পানির পণ্য বা পরিষেবাদি প্রচার করতে পারবেন। আপনার দেওয়া লিঙ্কে ঢুকে যদি কেউ সেই কোম্পানির পণ্য কিনে তাহলে আপনি সেখান থেকে একটি নির্দিষ্ট এমাউন্ট কমিশন হিসেবে পাবেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মূল কাজটি হল লোকদের আপনার ওয়েবসাইট/ব্লগ বা ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, টুইটার বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষকে একটি নির্দিষ্ট পণ্য বা সাইটের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। এর জন্য, আপনার এমন কন্টেন্ট ব্যাবহার করা উচিত যাতে করে যারা এই পন্যটি কিনতে চান তা ওই লোকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি কাস্টমারদের জন্য ইলেকট্রনিক্স পণ্য সম্পর্কে ভিডিও তৈরি করতে পারেন – সেগুলি কীভাবে ব্যাবহার করতে হয় অথবা কোন পণ্যটি সেরা ইত্যাদি।

নিজস্ব ই-কমার্স সাইট

অনলাইনে অর্থোপার্জনের একটি খুবই ভালো উপায় হতে পারে এটি। তবে এর জন্য আপনার কিছুটা সময় এবং শ্রমের প্রয়োজন। একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনি নিজের ওয়েবসাইট থেকে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন, হতে পারে সেই পণ্যটি আপনার নিজের বা অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য। আপনি কোনো পণ্যের অর্ডার নিয়ে সেটি কোনো থার্ড পার্টি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তা গ্রাহকের কাছে পৌছে দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনার দ্রুত পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

আরও পড়ুন:  এফিলিয়েট মার্কেটিং কি এবং তা থেকে আয় করার উপায়। What is affiliate marketing?

এছাড়া আপনি আপনার ওয়েবসাইটটি google adsense দ্বারা মনিটাইজেশনের মাধ্যমেও সেখান থেকে ভালো পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে পারেন।

ই-বুক

আপনার বর্তমান পেশা নির্বিশেষে, কিছু প্যাসিভ ইনকাম এবং নিজেকে সবার কাছে পরিচিত করার অন্যতম একটি মাধ্যম হতে পারে নন-ফিকশন ই-বুকস রাইটিং। একবার বইটি লিখা এবং প্রকাশ করার পরে আপনাকে আর তেমন কিছু করতে হবে না।

এছাড়াও আপনি রোম্যান্স, বিজ্ঞান কল্পকাহিনী, কল্পনা বা রহস্যের মতো জনপ্রিয় ঘরানার উপন্যাস লিখেও তা একটি ই-বুক হিসাবে প্রকাশ করার মাধ্যমেও হাজার হাজার ভিওয়ার পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আপনি RokomariAmazon এর মতো দেশীয় এবং বিদেশি প্ল্যাটফর্মগুলিতে ই-বুক বিক্রি করতে পারেন। আপনি যদি লেখক হিসাবে নিজের ব্র্যান্ড তৈরি করতে সক্ষম হন তবে আপনি সরাসরি নিজের ওয়েবসাইট থেকে ই-বুক বিক্রি শুরু করতে পারবেন এবং আপনার লাভ বাড়াতে পারেন।

অনলাইন সার্ভে

অনলাইন সার্ভেতে অংশ নিয়ে আপনি কিছু টাকা আয় করতে পারবেন। ওই সার্ভেগুলোতে আপনার সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হতে পারে। আপনার যদি এইসব তথ্য শেয়ার করাতে কোনো সমস্যা না থাকে তাহলে আপনি এই কাজটি করতে পারেন। এসব সার্ভেতে যদিও আপনি এক বা দুই ডলারের বেশি আয় করতে পারবেন না।

সার্ভে পূরণ করার এমন কোনো ব্যক্তিগত তথ্য অবশ্যই শেয়ার করবেন না যার জন্য আপনার সমস্যা হতে পারে এবং এইরকম ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চাওয়া সাইট গুলাও এভোয়েড করবেন। আপনার এও মনে রাখা উচিত যে আপনি নির্দিষ্ট কোনো সার্ভেতে অংশ নেওয়ার জন্য যোগ্য না ও হতে পারেন যদি আপনার প্রোফাইল কোম্পানিগুলোর ক্রাইটেরিয়াগুলোর সাথে ম্যাচ না করে। এই রকম কিছু সার্ভে সাইট হচ্ছে TolokaSwag bucks ইত্যাদি।

আরও পড়ুন:  ওয়েব ডিজাইন এর কাজ কি? ওয়েব ডিজাইনে কি কি শিখতে হয়?

ফ্রিল্যান্সিং 

আপনার যদি কোনো একটি নির্দিষ্ট দিকে দক্ষতা থাকে যেমন- আইটি সার্ভিস, কপি এডিটিং বা গ্রাফিক ডিজাইনের মতো, তবে আপনি অনলাইন ফ্রিল্যান্সার হিসাবে বিভিন্ন সাইটে নিজেকে অফার করতে পারেন। আপনি যদি পর্যাপ্ত ভালো গিগস তৈরি করতে পারেন তাহলে আপনি ফুল টাইম ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে পারবেন। অথবা আপনি আপনার কাজের পাশাপাশি আয়ের পরিপূরক হিসাবে মাঝে মাঝে বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্স ভিত্তিক ওয়েবসাইট যেমন FreelancerUpwork  এবং পাশাপাশি অন্যান্য বড় সাইটগুলি ব্যবহার করে আপনি গিগস পেতে পারেন। এই কাজগুলো মাধ্যমে আপনি আপনার নিজের ইনডিভিজুয়াল ব্র্যান্ডিংও বাড়াতে পারবেন। যার মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন অর্গানাইজেশন বা কম্পানির সাথে কাজে যুক্ত হতে পারবেন যাদের এইরকম ফ্রিল্যান্সার দরকার বিভিন্ন কাজে।

অনলাইন কোচিং 

আপনার যদি কমিউনিকেশন স্কিল ভালো হয় এবং আপনি যদি কাওকে প্রফেশনাল লাইফে সফল হতে মোটিভেট করতে চান তাহলে অনলাইন কোচিং এর মাধ্যমেও আপনি আপনার ক্যারিয়ার দাড় করাতে পারবেন। ব্যক্তিগত সুখ বা ক্যারিয়ারের আত্মবিশ্বাসের পথে বাঁধা হয়ে থাকা মানসিক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে যাওয়ার জন্য অনেকেরই গাইডের প্রয়োজন  হয়। একজন অনলাইন কোচ হিসাবে, আপনি তাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে এবং তাদের জীবন উন্নত করতে সহায়তা করার জন্য পরামর্শ দিতে পারেন।

একজন অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে আপনার গুরুত্ব নির্ভর করে আপনার ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং এর উপর যার জন্য আপনার কিছুদিন পরিশ্রম করা লাগতে পারে।

আরও পড়ুন:  ফ্রিল্যান্সিং কি এবং কীভাবে শিখবো? How to learn freelancing?

আপনি শুরুর দিকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করতে পারেন কিন্তু একবার জনপ্রিয় হয়ে গেলে ক্লায়েন্টই আপনাকে খুঁজে নিবে।

অনলাইন কোর্স বিক্রি 

ই-বুকের মতোই অনেকটা ব্যাপার এটি। আপনি কোনো বিষয়ে দক্ষ হলে ওই রিলেটেড অনলাইন কোর্স বানিয়ে সেগুলো বিক্রি করে টাকা আয় করতে পারবেন। আপনার বিভিন্ন বিষয়ে অন্যকে শেখানোর ইচ্ছা থাকলে আপনি এই কাজটি বেছে নিতে পারেন।

আপনি কিছু জনপ্রিয় ওয়েবসাইটে আপনার কোর্স পোস্ট করতে পারবেন এবং সেল করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন; এরকম একটি সাইট হল Udemy। তবে অন্যান্য অনলাইন ব্যবসায়ের মতো, আপনি যদি আপনার জনপ্রিয়তা প্রতিষ্ঠা করতে পারেন তবে আপনার নিজের সাইটের মাধ্যমে আপনার কোর্সগুলি বিক্রি করতে পারবেন।

ভিডিও কোর্স হলে সেক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান ছাড়াও, ভিডিওগুলিতে আপনার উপস্থিতি আকর্ষণীয় হতে হবে। আপনি যদি শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে না পারেন তবে তারা আর কোর্স কিনতে আসবে না।

কিছু কথা

অর্থোপার্জনের অনেক সুযোগ রয়েছে অনলাইনে কিন্তু তার জন্য আপনার প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে। এই সম্ভাবনার বাজারে টিকে থাকতে আপনাকে ভিড় থেকে উঠে দাঁড়াতে হবে এবং সম্ভাব্য ক্লায়েন্ট এবং গ্রাহকদের বোঝাতে হবে যে আপনি ভাড়া নেওয়ার বা কাজ করার জন্য সঠিক ব্যক্তি। যে কোনও অনলাইন পেশায় সফল হওয়ার জন্য ব্যতিক্রমী  মার্কেটিং স্কিলের প্রয়োজন। আপনি যদি নিজেকে সফলভাবে অনলাইনে জনপ্রিয় করে তুলতে পারেন তবেই শুধুমাত্র সফলতার সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে পারবেন।

Leave a Comment