অলিম্পিয়ার জিউসের মূর্তি: প্রাচীন গ্রীক শিল্পের এক স্মৃতিস্তম্ভ।

অলিম্পিয়ার জিউসের মূর্তি প্রাচীন বিখ্যাত গ্রীক ভাস্কর্যগুলোর মধ্যে একটি। এটি তার শৈল্পিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি ঐতিহ্যগত ভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় ২০০০ বছরেরও পূর্বে এটি তৈরি করা হয়েছিল। এই দুর্দান্ত স্থাপনাটি অলিম্পিয়ার জিউসের মন্দিরে অবস্থিত। গ্রীকরা  জিউসকে আকাশ ও বজ্রের দেবতা হিসেবে গন্য করতো। আর অলিম্পিয়ার এই জিউসের মুর্তিটি প্রাচীন বিশ্বের সাত আশ্চর্যের মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হত। যদিও মূর্তিটি অনেক বছর পূর্বেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গিয়েছে।

অলিম্পিয়ার জিউসের মূর্তি: প্রাচীন গ্রীক শিল্পের এক স্মৃতিস্তম্ভ।
জিউসের কাল্পনিক মূর্তি

অলিম্পিয়ার জিউসের মূর্তি যে কারণে বিখ্যাত

মন্দিরটি অলিম্পিয়া শহরে অবস্থিত ছিল যা অলিম্পিক গেমসের জন্মস্থান, প্রাচীন গ্রীসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় এবং খেলাধুলার জন্য বিখ্যাত স্থান, এবং পাশাপাশি  এটিকে প্রাচীন বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত ধর্মীয় স্থান হিসাবে বিবেচনা করা হত।

My bangla blog এর সকল পোস্ট গুগল নিউজে পেতে ভিজিট করুন এখানে Google news

জিউসের মূর্তিটি তৈরি করেছিলেন বিখ্যাত গ্রিক ভাস্কর ফিডিয়াস, যিনি খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতাব্দীতে এথেন্সে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন বহুমুখী শিল্পী ছিলেন যিনি ভাস্কর্য, পেইন্টিং এবং ধাতুর কাজ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ ছিলেন এবং তাকে প্রাচীন গ্রিসের অন্যতম সেরা শিল্পী হিসাবে বিবেচনা করা হত। অলিম্পিয়াতে জিউসের মূর্তিটি ছিল তার সবচেয়ে বিখ্যাত কাজগুলির মধ্যে একটি, যা তার ব্যতিক্রমী প্রতিভা এবং শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গির দিকে আলোকপাত করে।

আরও পড়ুন:  গিজার মহা পিরামিড: মিশরের সবচেয়ে বড় পিরামিড।

এই মূর্তিটি জিউসকে তার সিংহাসনে উপবিষ্ট অবস্থায় চিত্রায়িত করা হয়েছে যার মাথায় রয়েছে জলপাই পাতার মুকুট এবং হাতে একটি রাজদণ্ড। সিংহাসনটি বিভিন্ন দেবতা এবং বীরদের ছবি দিয়ে সজ্জিত ছিল। মূর্তিটি হাতির দাঁত এবং সোনা দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল যা দেবতার মহিমাকে প্রতিফলিত করে। জানা যায়, ৪০ ফুটেরও বেশি লম্বা মূর্তিটি এতটাই সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর ছিল যা মন্দিরের দর্শনার্থীদের বাকরুদ্ধ করে ফেলতো। হাতির দাঁত ও সোনার মিশ্রণে তৈরি মুর্তিটির প্রাণবন্ত অভিব্যক্তি মূর্তিটিকে প্রাচীন গ্রীক শিল্পের একটি সত্যিকারের মাস্টারপিস করে তুলেছে।

প্রাচীন গ্রীকদের কাছে ধর্ম ছিল দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা বিশ্বাস করতো দেবতারা তাদের ব্যক্তি এবং সমগ্র সম্প্রদায়ের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। অলিম্পিয়ার জিউসের মন্দিরটি এমন একটি জায়গা যেখানে প্রাচীন গ্রিসের লোকেরা প্রার্থনা, বলিদান এবং দেবতার সান্নিধ্য পেতে আসত। জিউসের মূর্তিটি ছিল দেবতার শক্তি ও মহিমার প্রতীক, পাশাপাশি ধর্মীয় উপাসনা ও ভক্তির কেন্দ্রবিন্দু। মূর্তিটি কেবল মাত্র শিল্পই নয়, প্রাচীন গ্রীক জনগণের গভীর ধর্মীয় আধ্যাত্মিক বিশ্বাসকেও প্রতিফলিত করে।

Leave a Comment