ক্যাপাডোসিয়া: তুরস্কে মাটির নিচে শহর রয়েছে যেখানে।

ক্যাপাডোসিয়া হল তুরস্কের একটি অঞ্চলের পুরানো নাম যা তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের ৫টি প্রদেশ যথাক্রমে কায়সেরি, কিরসেহির, নেভসেহির, নিগদে এবং আকসারা নিয়ে গঠিত। বর্তমানে মূলত নেভসেহির ৮০ বর্গ কিলোমিটার এলাকাকে ক্যাপাডোসিয়া নামে ডাকা হয়। আগ্নেয়গিরি, পাথর কেটে তৈরি করা গীর্জা এবং ভূগর্ভস্থ শহরগুলোর জন্য ক্যাপাডোসিয়া বিখ্যাত। বর্তমানে এটি তুরস্কের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র, তবে অতীতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ছিল। কারণ এটি ছিল মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ এবং কৃষ্ণ সাগর থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত প্রাচীন বাণিজ্য পথের সংযোগস্থল। ক্যাপাডোসিয়ার মাটির নিচে শহর বেশিরভাগই মধ্য তুরস্কের নেভসেহির অঞ্চলে পাওয়া যায়। প্রায় চল্লিশটি ভূগর্ভস্থ শহরের মধ্যে, নেভশিরের কিছু শহর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। যার মধ্যে রয়েছে কায়মাক্লি, ডেরিঙ্কুয়ু, ওজকোনাক, মাজি এবং উর্গুপ।

ক্যাপাডোসিয়াঃ মাটির নিচে শহর রয়েছে যেখানে।

My bangla blog এর সকল পোস্ট গুগল নিউজে পেতে ভিজিট করুন এখানে Google news

ক্যাপাডোসিয়ার মাটির নিচের শহরগুলোর ইতিহাস

ক্যাপাডোসিয়ার মাটির নিচে শহর গুলি বাইজেন্টাইন যুগে খ্রিস্টানরা নির্মাণ করেছিল। এই শহরের বাসিন্দারা ৭৮০ এবং ১১৮০ সালের দিকে আরব-বাইজান্টাইন যুদ্ধের সময় আরব মুসলিমদের থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য গুহাগুলোতে অবস্থান নিয়েছিল।

আরও পড়ুন:  ব্রাজিলের সাপের দ্বীপ। স্নেক আইল্যান্ড।

ধারণা করা হয় মাটির নিচের শহরগুলি প্রাথমিকভাবে ৮ম এবং ৭ম খ্রিস্টপূর্বাব্দে ফ্রীজিয়ানরা তৈরি করেছিল। সেসময় সেখানে ফ্রীজিয়ান ভাষা প্রচলিত ছিল। পরবর্তিতে রোমান যুগে খ্রীস্টানরা সেখানে বসবাস শুরু করলে গ্রীক ভাষার প্রচলন শুরু হয়। এর প্রমান পাওয়া যায় সেখানকার চ্যাপেল ও খোদাই করা গ্রীক শিলালিপি দেখে।

ক্যাপাডোসিয়া তুরস্কে মাটির নিচে শহর

ক্যাপাডোসিয়ার মাটির নিচে শহরগুলি তখনকার যুগে চিন্তা করলে সত্যিই অবিশ্বাস্য ছিল। কিছু কিছু যায়গায় মাটি কেটে মাটির নিচেই কয়েক তালা বিশিষ্ট বাড়ি, রাস্তাঘাট ইত্যাদি তৈরি করে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যাবস্থাই সেখানে ছিল। যেমন রান্নাঘর, শোবার ঘর, ঘোড়া রাখার জন্য আলাদা ঘর, আঙ্গুরের রস থেকে মদ তৈরি করার যায়গা, ড্রেনেজ ব্যাবস্থা ইত্যাদি। মাটির নিচ থেকে ধোঁয়া বের করে দেওয়ার জন্য বিশেষ ভাবে উপরের দিকে ছিদ্র করত। বাচ্চাদের পড়াশোনার জন্য স্কুল, গীর্জা সবই ছিল সেখানে।

ক্যাপাডোসিয়া তুরস্কে মাটির নিচে শহর

সেখানকার বাসিন্দাদের সুরক্ষা ব্যবস্থাও ছিল খুব মজবুত। যেকোনো অনুপ্রবেশকারীর প্রবেশ ঠেকাতে প্রবেশদ্বারে বড়  ও ভারী পাথর ব্যাবহার করতো। এমনকি ছাদে এরকম কিছু গর্ত রয়েছে যার মাধ্যমে যে কোনও অনুপ্রবেশকারীকে গরম তেল ঢেলে দেওয়া যায়।

আরও পড়ুন:  অ্যান্টার্কটিকা: পৃথিবীর শীতলতম মহাদেশ। Antarctica

পরবর্তীতে অটোমান সাম্রাজ্যের সময় নিপীড়িত হওয়া মানুষরা নিজেদের রক্ষা করতে গুহাগুলো ব্যবহার করেছে। অটোমান সাম্রাজ্যের পরবর্তীকালে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ শহরগুলো সম্পূর্ণরূপে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।

১৯৬৩ সালে সেখানকার একজন বাসিন্দা তার বাড়ির নিচে  একটি অদ্ভুত ঘর আবিষ্কার করেন। এর মাধ্যমেই বিশাল ভূগর্ভস্থ শহরটি পুনরায় আবিষ্কৃত হয়েছে।

ক্যাপাডোসিয়ার মাটির নিচে শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা

একসময় সুরক্ষার জন্য ব্যবহার হওয়া এই ভূগর্ভস্থ শহরগুলো বর্তমানে দর্শনার্থীদের জন্য খুবই আকর্ষনীয় জায়গা। নেভশেহিরের দক্ষিণে কায়মাক্লি এবং ডেরিঙ্কুয়ু সহ কিছু জায়গা দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত। গুহার আদলে তৈরি করা কিছু হোটেলও রয়েছে সেখানে। বিষ্ময়কর ও আকর্ষণীয় এই জায়গাটিকে ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করেছে।

Leave a Comment