চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া উপায়। যেভাবে চুল পড়া কমাবেন।

ঘুম থেকে ওঠার পরে বালিশের উপর চুল পাওয়া বা গোসলের পরে বাথরুমে চুল পড়ে থাকতে দেখা এগুলো বেশিরভাগ মানুষেরই নিত্যদিনের ঘটনা। তবে অতিরিক্ত চুল পড়া অবশ্যই ভালো কোনো লক্ষণ নয়। অনেকের চুল পড়া প্রতিরোধক শ্যাম্পু কিংবা বিভিন্ন চিকিৎসা নেওয়ার পড়েও চুল পড়া কমার কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।

অধিক চুল পড়লে অবশ্যই চুলের বিভিন্ন স্টাইলিং, সেগুলিকে ছোট করা বা লম্বা রাখা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। এজন্য প্রায়ই একটি সাধারণ প্রশ্ন শোনা যায় “চুল পড়ার কোনো কার্যকর সমাধান আছে? “, কিংবা “কীভাবে চুল পড়া বন্ধ করা যায়?”, “চুল পড়ার কোন চিকিৎসা কি কাজ করে?”

তাই এই ব্লগটিতে আপনার চুল পড়ার সমস্ত কারণগুলি এবং চুল পড়ার চিকিৎসা বা চুল পড়ার প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করবো। আলোচ্য বিষয়গুলো হচ্ছে-

  • চুল পড়ার কারণ
  • চুল পড়ার লক্ষণ
  • চুল পড়ার দুশ্চিন্তা বন্ধ করার জন্য চুলের যত্নের টিপস চুল পড়া কমানোর ঘরোয়া উপায়
  • সঠিক ডায়েটের মাধ্যমে মহিলাদের চুল পড়া বন্ধ করার উপায়
  • চুল পড়া নিয়ন্ত্রণের পণ্য

চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া উপায়।

চুল পড়া বন্ধ করার আগে চুল পড়ার কারণগুলো জেনে নিন 

চুল পড়ার আসল কারণগুলো বুঝতে পারলে তা আমাদের দক্ষতার সাথে চুল পড়ার সমাধান খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। নিচে চুল ভাঙ্গার এবং চুল পড়ার সাধারণ কিছু কারণ উল্লেখ করা হল:

১. ভুল শ্যাম্পু ব্যবহার করা

আপনার চুলের ধরন এবং চুলের অবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকা চুল সম্পর্কিত সমস্যাগুলি যেমন অস্বস্তি, চুল ভেঙে যাওয়া এবং চুল পড়া রোধ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার চুল ঝরঝরে থাকে তবে আপনার চুলের জন্য এমম শ্যাম্পু দরকার যা চুলকে ময়েশ্চারাইজ করে। যদি আপনি ইতিমধ্যেই চুল পড়া খেয়াল করে থাকেন, তাহলে আপনার চুল পড়া প্রতিরোধের জন্য সমাধান প্রয়োজন। কিন্তু আপনি যদি ভুল শ্যাম্পু ব্যবহার করেন তবে এটি চুল পড়ার সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে আরও চুল পড়ার সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই, ভিটামিন-বেসড অ্যান্টি-হেয়ার ফল শ্যাম্পুর মতো সঠিক উপাদান চুল পড়া রোধে সহায়ক হতে পারে।

২. দৈনিক রুটিন মাফিক চুলের যত্ন

অতিরিক্ত তাপ, আর্দ্রতা বা শুষ্কতা সবই চুলের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘক্ষণ সূর্যের এক্সপোজার, খুব কম চুল ধোয়া, চুলের পুষ্টির জন্য পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে চুলের ক্ষতি হতে পারে। আপনার চুলের যত্নের নির্দিষ্ট রুটিন আপনাকে আপনার চুলের অবস্থার উন্নতিতে সাহায্য করতে পারে। আপনার লাইফস্টাইলে কিছু জিনিস পরিবর্তন করে সম্ভাব্য সঠিক উপায়ে আপনার মাথার ত্বকের যত্ন নেওয়া উচিত, যেমন- আপনার চুল আঁচড়ানো, নিয়মিত বিরতিতে তেল দেওয়া, চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করা ইত্যাদি।

৩. খাদ্য এবং অপুষ্টি জনিত কারণ

আপনি যদি নির্দিষ্ট ডায়েট চার্ট অনুসরণ করেন তবে আপনার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ভিটামিন এবং খনিজ গ্রহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চুলের বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ খাবার থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তাই এটি চুল পড়ার অন্যতম সমাধান। অতি মাত্রায় ডায়েটিং আপনাকে দুর্বল করতে ফেলতে পারে। সঠিক ডায়েট অনুসরণ করা, প্রচুর পুষ্টি গ্রহণ করা এবং পর্যাপ্ত ব্যায়াম করা সব দিক থেকেই উপকারী। আমাদের চুলের সব ধরনের পুষ্টি, ভিটামিন এবং মিনারেলের প্রয়োজন। পুষ্টিকর খাবারের অভাবে চুলের ক্ষতি হতে পারে।

৪. শারীরিক এবং মানসিক চাপ

অত্যাধিক শারীরিক চাপ আপনার চুল ডিহাইড্রেটেড করতে পারে। এই অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে, ক্রমাগত অসুস্থতা এবং ওজন হ্রাস বা বৃদ্ধি সবই চুল পড়ায় ভূমিকা রাখে। কোনো কিছু নিয়ে খুব বেশি স্ট্রেস নেওয়ার ফলে চুল ভেঙে যেতে পারে কারণ এতে চুল শুষ্ক হয়ে যায়। অন্যদিকে শারীরিক চাপ আপনার শরীরের জন্য ভালো কিন্তু এতে করে মাথার ত্বকে অতিরিক্ত ঘাম জমে চুল পড়া বাড়ায়। চুল পড়া কমাতে হলে সবসময় মানসিক চাপ কমাতে হবে। চুল পড়া কমানোর আরেকটি উপায় হল কঠোর ওয়ার্কআউটের পর গোসল করা এবং ভালো করে চুল পরিষ্কার করা।

আরও পড়ুন:  কোলেস্টেরল কি? কোলেস্টেরল কমানোর খাদ্য তালিকা।

৫. বংশগত কারণে চুল পড়া

জিন আপনার চুলের প্যাটার্ন নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করে। চুল পড়ার সমস্যা জেনেটিক্যালি হয়ে যাওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার। পুরুষের ক্ষেত্রে আংশিক বা সম্পূর্ণ টাক হতে পারে, আবার মহিলারা অনেক সময় তাদের মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে অ্যালোপেসিয়া (মাথার চুল গজানোর চেয়ে অধিক পরিমাণে পড়ে যাওয়া) সেনসিটিভ হতে পারে। এটি যদিও আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে, তথাপি আপনি সর্বদা চলের যত্ন এবং চুল পড়ার সমাধানের চেষ্টা করতে পারেন বা প্রয়োজনে চুলের চিকিৎসার জন্য যেতে পারেন। যদি এটি কাজ না করে, তাহলে আপনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সর্বদা একজন অভিজ্ঞ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে পারেন।

৬. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা

একজন ব্যক্তির এটি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে প্রচুর পরিমাণে চুল পড়তে পারে। আপনি হয়তো নিয়মমাফিক ব্যায়াম করছেন, সমস্ত পুষ্টিও নিচ্ছেন কিন্তু যদি আপনার হরমোনের সঠিক ভারসাম্য না থাকে তাহলে আপনার চুল পড়া, টাক পড়া, ওজন বৃদ্ধি ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। এই ক্ষেত্রে আপনার নিজের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে সর্বদা একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত। হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে আপনার চুল পড়ে থাকলে আপনি বাহ্যিকভাবে সাহায্য করার জন্য চুল পড়ার সমাধান হিসেবে শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ব্যবহার শুরু করতে পারেন।

৭. চিকিৎসা

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা যেমন হতে পারে পাশাপাশি পিসিওএস, থাইরয়েড, পিসিওডি ইত্যাদির মতো চিকিৎসাও চুল পড়ার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই ধরনের চিকিৎসার কারণে প্রচুর পরিমাণে চুল পড়ে। চুল পড়ার পাশাপাশি চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। আপনার স্বাস্থের অবস্থা বিবেচনা করে চুল পড়ে যাওয়ার কারণ খুজে বের করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যাবস্থা নিলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

৮. গর্ভাবস্থা

একজন মহিলা গর্ভবতী হওয়ার ফলে সাধারণত শরীরে অনেক চাপ পড়ে। পুষ্টির চাহিদাও বাড়ে তখন। সঠিক যত্নের অভাবে ডিহাইড্রেশন, ক্লান্তি দেখা দিতে পারে যার জন্য শেষ পর্যন্ত চুল পড়ে যেতে পারে। গর্ভাবস্থায় সঠিক পরিমাণে খাবার খাওয়া প্রয়োজন। এটি মা এবং শিশুকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং চুল পড়া এবং চুল সংক্রান্ত অন্যান্য সমস্যা থেকে দূরে রাখতে পারে।

চুল পড়ার প্রতিকার বেছে নেওয়ার আগে লক্ষণগুলি জেনে নিন

আপনি সারাদিন যা ই করেন আপনার মাথা থেকে চুল পড়া স্বাভাবিক, তবে কীভাবে বুঝবেন যে আপনার চুল পড়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি আপনি প্রতিদিন ৫০-১০০ এর বেশি চুলের স্ট্র্যান্ড লক্ষ্য করেন তবে এটি অবশ্যই চিন্তার বিষয়। তা ছাড়াও, আপনার যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চুল পড়া রোধে চিকিৎসার প্রয়োজন আছে কিনা তা আপনি অনেকগুলি লক্ষণ দেখে বুঝতে পারবেন।

চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া উপায়।

১. পাতলা চুলঃ আপনার চুল স্বাভাবিকের চেয়ে পাতলা হয়ে যাবে। আপনার চুল কমে যাচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করার সর্বোত্তম উপায় হল আপনার মাথার তালুতে চুলের পরিমাণের উপর নজর রাখা। এই অঞ্চলে চুল পাতলা হওয়া চুল পড়ার সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ। পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি খুব দৃশ্যমান হতে পারে। অন্যদিকে, মহিলাদের ক্ষেত্রে আপনি কপালের পাশে চুল পড়ে যাওয়া এবং কমে যেতে দেখা শুরু করতে পারেন।

আরও পড়ুন:  সকালের নাস্তায় কি খাওয়া উচিত? সকালের নাস্তার উপকারিতা।

২. টাক দৃশ্যমান হওয়াঃ ছোট গোলকার অংশ জুড়ে তালুতে চুল কমে যাওয়া চুল পড়ার লক্ষণ হতে পারে। কখনও কখনও এটি দৃশ্যমানভাবে লক্ষ্য করা যায়, আবার অনেক সময় আপনি আপনার মাথার ত্বকের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় চুলকানি অনুভব করতে পারেন। যেভাবেই হোক, আপনার মাথার ত্বক এবং চুলকে অবিলম্বে পুষ্ট করার জন্য কোনো একটি সমাধানের দিকে যাওয়া উচিত।

৩. হঠাৎ চুল ঝরে যাওয়াঃ আপনার চুলের গোড়া হয়ত এমনিতে স্বাভাবিক অবস্থায় শক্ত থাকতে পারে, কিন্তু কখনও কখনও চুল আঁচড়ানোর মতো আকস্মিক শক বা নিয়মিত চুল বাঁধার সময় জোরে টান লাগার কারণে হঠাৎ চুল পড়ে যেতে পারে। এই সব ক্ষেত্রে চুল পাতলা হয়ে যায় এবং অবশ্যই এর জন্য নির্দিষ্ট সমাধানের প্রয়োজন।

৪. শরীরের অন্যান্য অংশে চুল পড়াঃ চুল পড়া শুধু আপনার মাথার ত্বকেই ঘটে না। এমন অবস্থা হতে পারে ক্যান্সারের জন্য কেমোথেরাপির মতো চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও। যদিও এটি স্থায়ী হয় না এবং চুল আবার গজাতে শুরু করে, অন্যথায় এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন।

মহিলাদের জন্য চুল পড়ার চিকিৎসা

চুল পড়া একটি বাজে জিনিস এবং কখনও কখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরেও চলে যেতে পারে, তবে চুল পড়া কমাতে কিছু জিনিসের যত্ন নেওয়া যেতে পারে। চুল পড়ার সমাধান যে যেকোনো একটি উপায়েই করা যাবে বিষয়টি এমন নয়। আপনার সার্বিক দিক বিবেচনা করে তারপর কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। চুল পড়ার সমাধান হিসেবে মজবুত ও স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য সেরকম কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নিচে দেওয়া হলঃ

চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া উপায়। যেভাবে চুল পড়া কমাবেন।

১. নিয়মিত চুল ধোয়া: চুলকে সুস্থ রাখতে আপনার চুল ধোয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। চুলের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক থেকে আপনার চুল পরিষ্কার রাখা আপনার চুলকে ভালো রাখার একটি উপায় হতে পারে। সপ্তাহে অন্তত তিনবার আপনার চুল ধোয়ার জন্য অ্যান্টি-হেয়ার ফল শ্যাম্পু ব্যবহার করুন এবং সাথে কন্ডিশনার চুলকে আর্দ্র রাখে।

২. লাইফস্টাইল পরিবর্তন: যেকোনো পরিবর্তন আনার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো লাইফস্টাইল পরিবর্তন করা। আপনার জীবনযাপনের পদ্ধতি পরিবর্তন করুন, আপনার অনেক সমস্যা কমে যাবে। চুল নিয়ে সমস্যা হচ্ছে? কিছু ভালো অভ্যাস গড়ে তুলুন যা আপনার চুলের সমস্যায় পরিবর্তন আনতে পারে এবং আপনাকে ফিট ও সুস্থ রাখতে পারে। আগেই বলা হয়েছে, চুল পড়া শুধুমাত্র বাহ্যিক কারণে নয় বরং অভ্যন্তরীণ কারণেরও হতে পারে, যেমন  মনস্তাত্ত্বিক কারণ। চুল পড়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট ডায়েট অনুসরণ করুন যা আপনার স্ট্রেসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এমনকি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপনি নিয়মিত মেডিটেশন করতে পারেন।

৩. চুলের ম্যাসাজ: মাথায় ম্যাসাজ করা মাথায় রক্ত ​​সঞ্চালনের জন্য একটি উত্তম উপায়, তাই চুল পড়া বন্ধ করার জন্য এটি সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর উপায়। এটি চুল দ্রুত বৃদ্ধি করে এবং আপনাকে স্ট্রেস থেকে মুক্তি দেয় যা চুল পড়ার প্রধান কারণ। ম্যাসাজ আপনার চুলকে সঠিক শেপে রাখতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন:  ক্যান্সার কীভাবে হয়? ক্যান্সার থেকে মুক্তির উপায়।

৪. চুল শুকানো: চুল শুকানোর জন্য অধিকাংশ মানুষ তোয়ালে ব্যাবহার করে তবে এটি আপনার চুলকে খুব শুষ্ক এবং উষ্কখুষ্ক করে দিতে পারে, যাতে করে চুল ভেঙে যেতে পারে। এর পরিবর্তে বাতাসে চুল শুকানো বেশি স্বাস্থ্যকর। তোয়ালে দিয়ে আপনার চুল শুকানোর চেষ্টা করলে আপনার চুল এবং মাথার ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। যা খুশকির কারণ হতে পারে এবং চুলের ভাঙ্গা বাড়াতে পারে, যার ফলে চুল পড়ে যায়।

চুল পড়া কমানোর ঘরোয়া উপায়

ঘরোয়া প্রতিকার সবসময় চুল পড়ার রোধে ভালো প্রভাবক হিসেবে কাজ করতে পারে। নিচে কিছু ঘরোয়া প্রতিকার দেওয়া হল যা চুল পড়ার সেরা চিকিৎসা হিসেবে গন্য হয় এবং শেষ পর্যন্ত আপনার চুল পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করতে পারে।

চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া উপায়। যেভাবে চুল পড়া কমাবেন।

১. ফার্মেন্টেড চালের পানি: ফার্মেন্টেড রাইস ওয়াটারকে সব ধরনের চুল এবং চুলের বিভিন্ন সমস্যার জন্য সেরা প্রতিকার বলে মনে করা হয়। এটির অনেক উপকারিতা পাওয়া যায় এবং অনেক সৌন্দর্য বর্ধক পণ্যে ব্যবহার করা হয় কারণ এর সুবিধার একটি লম্বা তালিকা রয়েছে। এটি ভিটামিন সমৃদ্ধ, ক্ষতিগ্রস্থ চুলের কোষ মেরামত করে। এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং এর pH লেভেল চুল পড়া কমাতে এবং চুলকে মজবুত করতে সহায়তা করে।

২. বাঁশ: বাঁশের নির্যাস চুলকে শক্তিশালী করতে এবং সুন্দর, স্বাস্থ্যকর চুল পেতে সাহায্য করে। বাঁশের নির্যাস আছে এমন পণ্য ব্যবহার করলে আপনার চুল মজবুত ও স্বাস্থ্যকর হতে পারে এবং চুল পড়া কমতে পারে।

৩. চুলের জন্য অন্যান্য ঘরোয়া প্রতিকার: অনেক স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশেষজ্ঞ এর মতে, আপনার চুল পড়া কমাতে এবং চুলের সৌন্দর্য ঠিক রাখতে কিছু উপাদান খুব ভালো কাজ করে। যেমন-

ক. অ্যালোভেরা জেল: অ্যালোভেরা একাধিক সমস্যা নিরাময়ে খুবই ভালো কাজ করে যুগ যুগ ধরে চুলের বিভিন্ন সমস্যা যেমন তৈলাক্ত চুল, শুষ্ক চুল, চুল পড়া, খুশকি, চুলকানি ইত্যাদির চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আপনি দই, ভিটামিন-ই ক্যাপসুল, নারিকেল তেল এর মতো বিভিন্ন উপাদানের সাথে মিশিয়ে আপনার চুলে অ্যালোভেরা জেল লাগাতে পারেন।

খ. পেঁয়াজ: পেঁয়াজে সালফার থাকে যা কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে এবং কোলাজেন চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে। বিভিন্ন DIY হেয়ার কেয়ার মাস্কে পেঁয়াজের রস বা পেঁয়াজের তেল ব্যবহার করতে পারেন। গ. ডিম: অ্যালোভেরা, লেবু, মধু বা অলিভ অয়েল দিয়ে ডিমের সাদা অংশের ব্যবহার চুলের বিভিন্ন সমস্যা নিরাময়ে সহায়ক। এটি চুল পড়া কমানোর পাশাপাশি আপনার চুলকে চকচকে ও মসৃণ করে।

চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া উপায়।

গ. আমলা: এটি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ উপাদান এবং এটি আপনার চুলের ফলিকলগুলিকে ভিতর থেকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। আপনি এটি আপনার চুলে ব্যবহার করতে পারেন অথবা স্বাস্থ্যকর, বিশাল চুলের জন্য খাদ্যের অংশ হিসাবেও এটি গ্রহণ করতে পারেন।

এটি গুরুত্বপূর্ণ যে প্রতিটি ব্যক্তির চুলের ধরন এবং গঠন ভিন্ন তাই এই ঘরোয়া প্রতিকারগুলির মধ্যে কোনোটি একজন ব্যক্তির জন্য কাজ করতে পারে এবং অন্য কারো জন্য নাও হতে পারে। অতিরিক্ত চুল পড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি একজন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে পরামর্শ নেন।

Leave a Comment