প্রিন্সেস ডায়ানা: একজন রাজকুমারীর গল্প।


প্রিন্সেস ডায়ানা নামটির কথা কে না শুনেছেন! তার মৃত্যুর প্রায় ২৬ বছর পরেও তিনি সকলের কাছে অনেক জনপ্রিয়। আজ আলোচনা করবো সেই বিখ্যাত প্রিন্সেসের জীবন কাহিনী নিয়ে।

প্রিন্সেস ডায়ানা: একজন রাজকুমারির গল্প।
লেডি ডায়ানা ফ্রান্সেস স্পেন্সার

তার পুরো নাম লেডি ডায়ানা ফ্রান্সেস স্পেন্সার। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬১ সালের ১লা জুলাই। তিনি ছিলেন প্রিন্স অফ ওয়েলসের চার্লস এর প্রথম স্ত্রী। চার্লস এর সাতবে ১৯৮১ সালে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন এবং ১৯৯৬ সালে তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ঘঠে। মাঝখানের সময়টিতে তাকে “হার রয়্যাল হাইনেস দ্য প্রিন্সেস অফ ওয়েলস” হিসেবে উল্লেখ করা হতো। ১৯৯৬ সালে প্রিন্স অফ ওয়েলসের সাথে তার বিবাহবিচ্ছেদের পর ডায়ানা ‘ওয়েলসের রাজকুমারী’ স্বীকৃতি হারান।
তবে বিচ্ছেদের পরেও মিডিয়া এবং সাধারণ জনগন তাকে প্রিন্সেস ডায়ানা নামেই সম্বোধন করতো, যদিও তিনি এই জাতীয় উপাধির অধিকারী ছিলেন না। আর পারিবারিকভাবেও তিনি রাজকুমারী ছিলেন না, যেটা তিনি নিজেই মিডিয়ার কাছে বলেছেন।

তবে শুধুমাত্র যে তিনি রাজকুমারী হওয়ার জন্যই সারা বিশ্বে এত পরিচিতি পেয়েছেন তা নয়, বরং তার পরিচিতি ছিল দাতব্য সংস্থা নিয়ে কাজ করার কারণে। জনসাধারণের জন্য অনেক জনহিতকর কাজ করলেও ব্যাক্তিগত জীবনে প্রিন্স চার্লসের সাথে তার সম্পর্ক খুব বেশি একটা ভালো ছিল না। যার মূল কারণ ক্যামিলা পার্কার-বোলসের সাথে প্রিন্স চার্লসের সম্পর্ক, যেটা নব্বই এর দশকে ডায়ানা নিজেই প্রকাশ্যে এনেছিলেন।

১৯৮১ সালে প্রিন্স অফ ওয়েলসের সাথে তার বিয়ের সময় থেকে ১৯৯৭ সালে একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু পর্যন্ত ডায়ানা ছিলেন তর্কযোগ্যভাবে বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত নারী। পাশাপাশি তিনি ছিলেন বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত একজন ফ্যাশন আইকন। তাছাড়া এইডস সমস্যা এবং ল্যান্ডমাইনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচারণার জন্য তিনি অনেক প্রশংসিত হয়েছেন। তার জীবদ্দশায় তাকে প্রায়শই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ছবি তোলা ব্যক্তি হিসেবে মনে করা হয়।

প্রিন্সেস ডায়ানার শৈশব

ডায়ানার জন্ম ফ্রান্সেস স্পেন্সার স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটের পার্ক হাউসে। তিনি ছিলেন এডওয়ার্ড স্পেন্সার ভিসকাউন্ট আলথর্প এবং তার প্রথম স্ত্রী ফ্রান্সেস স্পেন্সারের কনিষ্ঠ কন্যা। তার বয়স যখন ৬ বছর তখন তার বাবা ও মার বিচ্ছেদ হয়। এর পর বাবার কাছে থেকেই তার শৈশব কাল কাটে।

প্রিন্সেস ডায়ানা: একজন রাজকুমারির গল্প।
লেডি ডায়ানার ছোটবেলার ছবি

তিনি শুরুতে ওয়েস্ট হেলথ পাবলিক স্কুলে কয়েক বছর পড়াশোনা করলেও পরবর্তীতে রিডলসওয়ার্থ স্কুলে পড়েছেন।
১৯৭৫ সালে তার দাদা আলবার্ট স্পেন্সার তথা সপ্তম আর্ল স্পেন্সারের মৃত্যুর পর ডায়ানার বাবা অষ্টম আর্ল স্পেন্সার হন। যার ফলশ্রুতিতে ডায়ানা ‘দ্য লেডি ডায়ানা স্পেন্সার’ উপাধিতে ভূষিত হন।

আরও পড়ুন:  শায়েস্তা খান: টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত যার সময়ে।

ডায়ানা প্রথমে রিডলসওয়ার্থ হলে এবং পরে ওয়েস্ট হিথ গার্লস স্কুলে (যদিও পরবর্তিতে এটি ছেলে ও মেয়ে সবার জন্যই উন্মুক্ত হয়)। ছাত্রী হিসেবে তিনি খুব একটা ভালো ছিলেন না। ফেল করেছিলেন ও-লেভেল পরীক্ষায়। ১৯৭৭ সাথে তার বয়স যখন ১৬, তখন তিনি ওয়েস্ট হিথ ত্যাগ করেন এবং সুইজারল্যান্ডের ইনস্টিটিউট আলপিন ভিডেমানেতে স্কুল শেষ করেন। পরবর্তীতে তিনি লন্ডনে চলে যান। মজার বিষয় হল সেই সময় ডায়ানার ভবিষ্যত স্বামী, তার বোন লেডি সারার সাথে প্রেম করছিলেন।

ডায়ানা একজন প্রতিভাবান অপেশাদার গায়িকা ছিলেন, খেলাধুলায় পারদর্শী ছিলেন এবং কথিত আছে যে তিনি ব্যালেরিনা (এক ধরনের ব্যালেট নাচ) হতে চেয়েছিলেন।
ডায়ানার পরিবার, স্পেন্সার্স কয়েক দশক ধরে ব্রিটিশ রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিল। তার নানী রুথ রাণী মাদার এলিজাবেথের দীর্ঘদিনের বান্ধবী ছিলেন।

এবার ডায়ানার বিয়ের গল্পে আসা যাক। ইংল্যান্ডের যুবরাজ যুবক বয়স থেকেই ছিলেন একজন প্রেমিক পুরুষ, আর অনেক মেয়ের সাথেই তার প্রেমের গুঞ্জন শোনা যায়। যাই হোক যুবরাজের বয়স যখন ত্রিশের আশেপাশে তখন পরিবার থেকে তার বিয়ের চাপ বাড়তে থাকে। তার বিয়ের জন্য উপযুক্ত কন্যার শর্ত ছিল কনেকে অভিজাত পরিবারের হতে হবে, যার পূর্বে কখনো বিয়ে হয়নি ও কুমারী। এর সবকটি যোগ্যতাই ডায়ানার মধ্যে ছিল।
জানা যায়, যুবরাজের প্রাক্তন বান্ধবী (পরবর্তীতে তার দ্বিতীয় স্ত্রী) ক্যামিলা পার্কার বোলস তাকে ১৯ বছর বয়সী লেডি ডায়ানা স্পেন্সারকে সম্ভাব্য বধূ হিসেবে বেছে নিতে সাহায্য করেছিলেন। তিনি তখন পিমলিকোর ইয়ং ইংল্যান্ড কিন্ডারগার্টেনে একজন সহকারী হিসেবে চাকরি করতেন।

প্রিন্স চার্লস এবং প্রিন্সেস ডায়ানার বিয়ে

১৯৮১ সালের ২৯শে জুলাই বুধবার লন্ডনের সেন্ট পলস ক্যাথেড্রালে ৩৫০০ আমন্ত্রিত অতিথির উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে হয় এবং অসংখ্য মানুষ টিভি পর্দায় সেই বিয়ে সরাসরি দেখতে পায়। ১৬৫৯ সালের পর থেকে ডায়ানা ছিলেন প্রথম ইংরেজ মহিলা যিনি ইংল্যান্ড সিংহাসনের উত্তরাধিকারীকে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের পর ডায়ানা রয়্যাল হাইনেস দ্য প্রিন্সেস অফ ওয়েলসে উপাধিতে ভূষিত হন। পাশাপাশি রানী এবং রানী মা’র পরে যুক্তরাজ্যের তৃতীয় সর্বোচ্চ রাজকীয় নারী উপাধি লাভ করেন।
পরবর্তীতে প্রিন্স এবং প্রিন্সেস অফ ওয়েলস দুটি সন্তানের সন্তান জন্ম দেন। ১৯৮২ সালের ২১শে জুন প্রথম সন্তান প্রিন্স উইলিয়াম অফ ওয়েলস এবং ১৯৮৪ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় সন্তান প্রিন্স হেনরি অফ ওয়েলস (সাধারণত প্রিন্স হ্যারি বলা হয়) এর জন্ম হয়।

প্রিন্সেস ডায়ানা: একজন রাজকুমারির গল্প।
প্রিন্স চার্লস ও লেডি ডায়ানা

প্রিন্সেস ডায়ানা ও প্রিন্স চার্লসের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ

১৯৮০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তাদের বিয়ে ভেঙে যায়। ঘটনাটি প্রথমে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরে বিশ্ব মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রিন্স এবং প্রিন্সেস অফ ওয়েলস উভয়ই তখন নিজস্ব বন্ধুদের উপস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে কথা বলেছেন এবং এর কারণ হিসেবে একজন আরেকজনকে দোষারোপ করেছেন। তারপর চার্লস ক্যামিলা পার্কার বোলসের সাথে তার সম্পর্ক আবার শুরু করেন। একই সময়ে ডায়ানা জেমস হিউইটের সাথে এবং পরে জেমস গিলবির সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তিনি অবশ্য পরে একটি টেলিভিশন সাক্ষাতকারে তার রাইডিং প্রশিক্ষক জেমস হিউইটের সাথে সম্পর্কের কথা
নিশ্চিত করেন । তাছাড়া ডায়ানার একজন দেহরক্ষীর সাথে তার সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা যায়, যদিও রাজকুমারী তার সাথে যৌন সম্পর্কের অভিযোগকে অস্বীকার করেন। এগুলো ছাড়াও ডায়ানা আর্ট ডিলার অলিভার হোয়ার এবং রাগবি খেলোয়াড় উইল কার্লিংয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পাশাপাশি তিনি হার্ট সার্জন হাসনাত খানের সাথে প্রকাশ্যে ডেট করেছিলেন।

আরও পড়ুন:  কনফুসিয়াস: একজন চীনা দার্শনিকের জীবনদর্শন।

অবশেষে প্রিন্স এবং প্রিন্সেস অফ ওয়েলস ১৯৯২ সালের ৯ই ডিসেম্বর আলাদা হয়ে যান এবং ১৯৯৬ সালের ২৮ আগস্ট লিখিত ভাবে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়। এর মাধ্যমে ডায়ানা তার রয়্যাল হাইনেস উপাধি হারিয়ে ফেলেন এবং পরিবর্তে তার নামের সাথে ওয়েলসের রাজকুমারী উপাধি যুক্ত হয়। যাইহোক, বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকে তিনি বাকিংহাম প্যালেসেই ছিলেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে রাজপরিবারের সদস্য ছিলেন যেহেতু তিনি রাজপরিবারের ২ সন্তানের মা ছিলেন।

প্রিন্সেস ডায়ানা দাতব্য কাজ

১৯৮০ এর দশকের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে ওয়েলসের রাজকুমারী তার দাতব্য সংস্থাগুলোর জন্য সুপরিচিত হয়ে ওঠেন। তিনি ল্যান্ডমাইন ব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এবং এইডস ব্যাধি নিয়ে প্রচারণামূলক কাজ করেন।
১৯৮৭ সালের এপ্রিলে প্রিন্সেস অফ ওয়েলস প্রথম হাই-প্রোফাইল সেলিব্রিটি হিসেবে এইচআইভি ভাইরাসে সংক্রমিত একজন ব্যক্তিকে স্পর্শ করে ছবি তোলেন, যা সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিভিন্ন কুসংস্কার দূর করার স্বীকৃতি স্বরূপ ২০০১ সালের ডিসেম্বরে বিল ক্লিনটন ‘ডায়ানা, প্রিন্সেস অফ ওয়েলস লেকচার অন এইডস’ কে বিশেষ উপাধিতে ভূষিত করেন। যেখানে তিনি বলেছিলেন:
“১৯৮৭ সালে যখন অনেকেই বিশ্বাস করতেন যে সংস্পর্শের মাধ্যমে এইডস সংক্রামিত হতে পারে, সেখানে রাজকুমারী ডায়ানা এইডস আক্রান্ত একজন ব্যক্তির অসুস্থ বিছানায় বসে তার হাত ধরেছিলেন। তিনি বিশ্বকে দেখিয়েছিলেন যে এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিরা বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করার যোগ্য নয়, বরং সহানুভূতি এবং দয়ার যোগ্য। এটি বিশ্বব্যাপী জনমত পরিবর্তন করতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে এবং এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাঁচার আশা দেখিয়েছে।”
প্রিন্সেস ডায়ানা গুরুতর অসুস্থ অনেক এইডস রোগীদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানোর জন্য গোপনে অনেক হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। বিভিন্ন নার্সদের ভাষ্যমতে, তিনি কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বিভিন্ন হাসপাতাল যেমন- লন্ডনের মিলডমে হসপিটাল সহ আরও বিভিন্ন হাসপাতালে মিডিয়া থেকে গোপনে পরিদর্শন করেছেন।

আরও পড়ুন:  মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক: আধুনিক তুরস্কের রুপকার।

প্রিন্সেস ডায়ানা এবং ল্যান্ডমাইন ক্যাম্পেইন

সম্ভবত তার সর্বাধিক প্রচারিত দাতব্য প্রচারণা ছিল তার ১৯৯৭ সালের জানুয়ারিতে অ্যাঙ্গোলা সফরে। যেখানে তিনি আন্তর্জাতিক রেড ক্রস সংস্থার ভিআইপি স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করেন। তিনি হাসপাতালে ল্যান্ডমাইন থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সাথে দেখা করেন, HALO ট্রাস্ট দ্বারা পরিচালিত ডি-মাইনিং প্রকল্প পরিদর্শন ও অংশগ্রহণ করেন। ডায়ানার ব্যালিস্টিক হেলমেট এবং ফ্ল্যাক জ্যাকেট পরে মাইনফিল্ড ভ্রমণের ছবি বিশ্বব্যাপী দেখা গিয়েছে। সেই বছরের আগস্টে তিনি ল্যান্ডমাইন সারভাইভার্স নেটওয়ার্কের সাথে বসনিয়া সফর করেছিলেন। ল্যান্ডমাইনের কারণে প্রচুর প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুরা আঘাতপ্রাপ্ত ও প্রাণ হারাতে পারে, যেটা কোনো যুদ্ধ ঘটে যাওয়ার অনেক পরেও হতে পারে।

১৯৯৭ সালের ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাজ্য সরকার এবং অন্যান্য দেশের অটোয়া চুক্তি স্বাক্ষরে তার প্রভাবের জন্য তিনি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন। তার মৃত্যুর পরে ব্রিটিশ হাউস অফ কমন্স- এ ল্যান্ডমাইনস বিল 1998 এর অধিবেশনে পররাষ্ট্র সচিব রবিন কুক ল্যান্ডমাইন নিয়ে ডায়ানার কাজের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভূয়সী প্রশংসা জানিয়েছেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ সেই সমস্ত দেশগুলির কাছে আবেদন জানিয়েছিল যারা সর্বাধিক সংখ্যক ল্যান্ডমাইন উৎপাদন এবং মজুদ করে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, উত্তর কোরিয়া, পাকিস্তান এবং রাশিয়া) তাদের উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে অটোয়া চুক্তিতে স্বাক্ষর করার জন্য।

প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যু

১৯৯৭ সালের ৩১শে আগস্ট ডায়ানা তার বন্ধু ও প্রেমিক ডোডি আল-ফায়েদ এবং তাদের ড্রাইভার হেনরি পলের সাথে প্যারিসের পন্ট দে ল’আলমা রোড টানেলে যাতায়াতকালে গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। ফায়েদের দেহরক্ষী ট্রেভর রিস-জোনসই একমাত্র ব্যক্তি যিনি এই দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফিরেছেন। ডায়ানাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কয়েক ঘন্টা মৃত্যুর সাথে লড়াই করে তিনি পরপারে পাড়ি জমান। রাজকুমারীর মৃত্যুর জন্য মূলত সাংবাদিকদের ব্যাপকভাবে দোষারোপ করা হয় কারণ তারা রাজকুমারীর গাড়িটিকে অনুসরণ করছিল এবং ড্রাইভারের তাড়াহুড়োর কারণেই মূলত এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। অনেকেই মনে করেন এই দুর্ঘটনার পেছনে রাজপরিবারের হাত রয়েছে। আবার অনেকে তার মৃত্যুর জন্য তার আপন বোন লেডি সারাহ কেও দায়ী করেন। যাইহোক, ডায়ানার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া টিভিতে প্রায় ৩২ মিলিয়ন মানুষ একযোগে প্রত্যক্ষ করেন। তাকে সমাহিত করা হয় স্পেন্সার মালিকানাধীন অ্যালথর্পের একটি ছোট দ্বীপে।

Leave a Comment