বিজ্ঞান কি? বিজ্ঞানের জনক কে? – My bangla blog

বিজ্ঞান কি

বিজ্ঞান কি?

সহজ ভাষায় বিজ্ঞান হচ্ছে “অধ্যয়ন বা অনুশীলনের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান”

এছাড়াও  বিজ্ঞানের আরও বিভিন্ন সংজ্ঞা দাড় করানো যায়। যেমন:

“বিজ্ঞান হল পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রাকৃতিক জগত সম্পর্কে শেখার প্রক্রিয়া।”

আরও সমসাময়িক পরিভাষায়, “বিজ্ঞান হল গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানের একটি অংশকে সংগঠিত করার জন্য আধুনিক প্রক্রিয়া বা পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে জ্ঞান অর্জনের একটি ব্যবস্থা।”

বিজ্ঞান শব্দটি ল্যাটিন শব্দ “scientia” থেকে এসেছে যার অর্থ “জ্ঞান”। অর্থাৎ বিজ্ঞান একটি দক্ষ কৌশল যা অনুশীলনের মাধ্যমে অর্জন করা যায়।

বিজ্ঞান হচ্ছে গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞান বৃদ্ধির একটি অব্যাহত প্রচেষ্টা। বিজ্ঞানীরা পর্যবেক্ষণ করেন, তাদের পর্যবেক্ষণের সাথে সম্পর্কিত পরিমাপযোগ্য ডেটা রেকর্ড করেন এবং জড়িত ঘটনার তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা তৈরি করতে হাতে থাকা তথ্য বিশ্লেষণ করেন।

বিজ্ঞান কীভাবে কাজ করে?

বৈজ্ঞানিক গবেষণার সাথে জড়িত পদ্ধতিগুলির মধ্যে রয়েছে কোনো একটি বিষয়ে অনুমান করা এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার অধীনে সেই অনুমান পরীক্ষা করার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো। আর এমনভাবে বিজ্ঞানীরা তাদের কাজগুলো প্রকাশ করেন যাতে অন্যান্য বিজ্ঞানীরা পরীক্ষার পুনরাবৃত্তি করতে পারে এবং ফলাফলের নির্ভরযোগ্যতা আরও জোরদার করতে পারে।
বৈজ্ঞানিক গবেষণার কার্যপ্রণালী নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করা যায়:

আরও পড়ুন:  চিকিৎসায় নোবেল বিজয়ী হলেন সুইডিশ জিনবিজ্ঞানী সুভান্তে পাবো।

১. কোনো একটি বিষয় পর্যবেক্ষণ করা

২. একটি হাইপোথিসিস তৈরি করা অর্থাৎ যা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে তার একটি অস্থায়ী বিবরণ তৈরি করা এবং সেই বিবরণের ভিত্তিতে কোনো কিছু অনুমান করা।

৩. হাইপোথিসিস এবং অনুমানের ভিত্তিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া।

৪. তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ফলাফল বের করা; অনুমানটি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করা বা প্রয়োজনে সংশোধন করা।

বিষদভাবে বলতে গেলে, বিজ্ঞানীরা প্রাকৃতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেন এবং তারপর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কোনো নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতে সেই প্রাকৃতিক ঘটনাকে বিষদভাবে জানার চেষ্টা করেন। পর্যবেক্ষণের উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা একটি মডেল তৈরি করেন এবং তারপর গাণিতিক বা যৌক্তিক উপস্থাপনার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটি বর্ণনা করার চেষ্টা করেন।

My bangla blog এর সকল পোস্ট গুগল নিউজে পেতে ভিজিট করুন এখানে Google news

অতঃপর বিজ্ঞানীরা ঘটনাটি ব্যাখ্যা করার জন্য একটি হাইপোথিসিস তৈরি করেন এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষামূলক প্রমাণ সংগ্রহ করেন।হাইপোথিসিসটি পরীক্ষা বা পর্যবেক্ষণ এবং পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়

হাইপোথিসিস গ্রহণ করা হবে নাকি প্রত্যাখ্যান করা হবে। অথবা হাইপোথিসিসের কোনো ডাটা সংশোধনের দরকার হলে সেটাও করা হয়। এটি বিজ্ঞানের সেই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চলমান গবেষণাকে অনুপ্রাণিত করে।

আরও পড়ুন:  জিপিএস কি? জিপিএস কীভাবে কাজ করে?


বিজ্ঞানের জনক কে?

বিজ্ঞানের জনক নিয়ে মত বিরোধ থাকলেও বেশিরভাগের মতে গ্যালিলিওকে (১৫৬৪-১৬৪২) বিজ্ঞানের জনক বলা হয়। গ্যালিলিও গ্যালিলিকে আধুনিক পর্যবেক্ষণমূলক জ্যোতির্বিদ্যার জনক, পদার্থবিজ্ঞানের জনক এবং আধুনিক বিজ্ঞানের জনক বলা  হয় । স্টিফেন হকিং এবং অন্যান্য বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে গ্যালিলিও গ্যালিলি ইতিহাসের অন্য যে কোনও ব্যক্তির চেয়ে আধুনিক বিজ্ঞানে বেশি অবদান রেখেছেন।

বিজ্ঞানের জনক কে

গ্যালিলিও গ্যালিলি ১৫ই ফেব্রুয়ারি ১৫৬৪ সালে ইতালির পিসায় জন্মগ্রহণ করেন। তবে শৈশবের বেশিরভাগ সময় ইতালির ফ্লোরেন্সে কাটিয়েছেন। গ্যালিলিও গ্যালিলি ছিলেন একাধারে ইতালীয় পদার্থবিদ, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ এবং দার্শনিক, যিনি বিজ্ঞানের বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। গ্যালিলিও ছিলেন একজন শিক্ষক, দার্শনিক, জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং পদার্থবিজ্ঞানী এবং বৈজ্ঞানিক বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ অবদানকারী হিসেবে পরিচিত।তিনি চাঁদের বৈশিষ্ট্য, বৃহস্পতির চারটি চাঁদ তথা আইও, ক্যালিস্টো, ইউরোপা এবং গ্যানিমিড পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। গ্যালিলিও বিজ্ঞানে পরীক্ষামূলক পদ্ধতি প্রবর্তন করেছিলেন এবং জোতির্বিজ্ঞানে টেলিস্কোপের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন।তিনি টেলিস্কোপের মাধ্যমে শনির বলয় পর্যবেক্ষণ (যদিও তিনি শনির রিংগুলিকে তাদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আলাদা করতে পারেন নি) এবং সূর্যের স্পট বিশ্লেষণ করেছেন।

যদিও তার কিছু বিষয় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, মৌলিক পদার্থবিদ্যা এবং আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যার জনক হিসেবে কেউ গ্যালিলিওর অবদানকে অস্বীকার করতে পারবে না।

Leave a Comment