মনকে সুস্থ এবং খুশি রাখার ১০ টি উপায়। 10 ways to be happy

মনকে সুস্থ, সতেজ এবং খুশি রাখার জন্য কত চেষ্টাই না আমরা করে থাকি। এর জন্য আমাদের দৈনিক অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা উচিত।

মনকে সুস্থ এবং খুশি রাখার ১০ টি উপায়।

চলুন দেখে আসি একটি সুস্থ মন রাখতে ১০ টি কি কি দৈনিক অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত-

১. স্বাস্থ্যকর খাবার খান

মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখা আপনার শরীরের উপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। ‘সুস্থ দেহে সুস্থ মন’ এই প্রবাদটির কথা আমরা সবাই জানি, তাই ডায়েট এবং আপনি কী খাবার খাচ্ছেন সে সম্পর্কে চিন্তা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সহজলভ্য এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। আপনার শক্তির মাত্রা বাড়ানোর জন্য তিন বার পরিমিত আহারের পরিকল্পনা করুন যাতে আপনি সারাদিন সক্রিয় থাকেন। নিজেকে হাইড্রেটেড রাখতে এবং আপনার মেটাবলিজম চালু রাখতে প্রচুর পানি পান করুন।

২. অ্যালকোহল পানে সতর্ক হোন

যদিও অনেক লোক তাদের মেজাজ পরিবর্তন করতে অ্যালকোহল এবং ক্যাফেইন পান করে, তবে তাদের প্রভাব কেবল অস্থায়ী। যখন শক্তি বা উত্তেজনার অনুভূতি ম্লান হয়ে যায়, তখন আপনি অনেক খারাপ অনুভব করবেন, যা আপনার মানসিক সুস্থতার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বেশিরভাগ মানুষই পরিমিত পরিমাণে অ্যালকোহল বা ক্যাফেইন পান ক17রতে পছন্দ করেন, যা আমাদের শরীরের জন্য উপকারী। যাইহোক, কিছু লোক এই মানসিক অশান্তি দূর করতে বা নার্ভাসনেস বা বিষণ্নতার অন্তর্নিহিত অনুভূতি থেকে বাঁচতে মদ্যপান চালিয়ে যায়। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। দিনে চার ইউনিটের বেশি অ্যালকোহল পান করবেন না যদি আপনি পুরুষ হন এবং তিন ইউনিট যদি আপনি মহিলা হন এবং রাত সাতটার পরে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান না করার চেষ্টা করুন।

মনকে সুস্থ এবং খুশি রাখার ১০ টি উপায়।

৩. ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলুন

প্রতিদিন একটু ব্যায়াম করলে বেশ কিছু উপকার হয়; মানসিক এবং শারীরিক উভয়ই। আপনি যখন ব্যায়াম করেন, তখন আপনার শরীর এন্ডোরফিন নিঃসরণ করে যা আপনার মেজাজকে ব্যাপকভাবে উন্নত করতে পারে। কিছু ব্যায়াম করার জন্য আপনাকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করার দরকার নেই এবং জিমেও যোগ দিতে হবে না। হাঁটা বা সাইকেল চালানো, গান শোনার সময় ঘর পরিষ্কার করা, বাগান করা ইত্যাদি শরীরে পর্যাপ্ত রক্ত ​চলাচলে সাহায্য করে। এগুলোর কারণে আপনি শারিরীকভাবে ফিট থাকবেন, যার ফলে আপনি নিজের সম্পর্কে আরও ভাল অনুভব করবেন।

আরও পড়ুন:  যেভাবে একটি মেয়ের ভালোবাসার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিবেন।

৪. যোগাযোগ বজায় রাখুন

বর্তমান সমাজে বন্ধু এবং পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখা সহজ বিষয় না। অন্য লোকেদের সংস্পর্শ আমাদের পরিপূর্ণ মানুষ করে তোলে। এটিকে অবহেলা করা আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মূলে রয়েছে কাছের মানুষদের সাথে যোগাযোগ না থাকা। অন্যদের সাথে যোগাযোগ রেখে এবং দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রেখে এই সমস্যার সমাধান করা যায়। আপনার সমস্যা হলে বন্ধু বা পরিবারের কাছ থেকে সাহায্য নিন, আপনি কেমন অনুভব করছেন সে সম্পর্কে তাদের সাথে কথা বলুন এবং তাদের চিন্তাভাবনা এবং মতামত শুনুন।

মনকে সুস্থ এবং খুশি রাখার ১০ টি উপায়।

৫. স্থান পরিবর্তন করা

কখনও কখনও আমরা একটি ধাক্কায় আটকে যাই, এটা আমাদের সবার হয়! ছুটি কাটানো, আপনার মেজাজ ভালো করার এবং বিশ্বের আরও অনেক কিছু দেখার একটি দুর্দান্ত উপায়। আমরা চাইলেই তো আর চাঁদে যেতে পারবো না। কিন্তু আমাদের প্রতিদিনের রুটিন থেকে বিরতি নেওয়ার অনেক সহজ (এবং কম ব্যয়বহুল) উপায় রয়েছে যা আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে। কাজের বৈচিত্রতা আপনার মনকে নতুনভাবে কাজে ফিরতে এবং বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সহায়তা করবে।

৬. শখকে গুরুত্ব দিন

আজকাল আমাদের জীবনের অনেকটা সময় কাজের চাপে থাকতে হয়, যাতে করে আমরা কখনও কখনও আমরা জীবনকে উপভোগ করাই ভুলে যাওয়া শুরু করি। হতে পারে আপনি ছবি আঁকতে, বাদ্যযন্ত্র বাজাতে ভালোবাসেন বা সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন। নিজের জন্য কিছু সময় বের করা আপনাকে চাপ মোকাবেলা করতে, আপনার মনকে ফোকাস করতে এবং নিজেকে প্রকাশ করতে সাহায্য করবে। আপনি যদি শূন্যতা অনুভব করেন তাহলে আপনার চিন্তাভাবনাগুলি একটি পেইন্টিং, একটি গান বা একটি কবিতায় প্রকাশ করুন যা আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে যে আপনি কেমন অনুভব করছেন এবং এটি আপনাকে আরও ভাল বোধ করতে সাহায্য করবে।

আরও পড়ুন:  হৃদরোগ বা হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার। হার্টের রোগীর ওষুধ।

৭. নিজেকে অনন্য ভাবতে শিখুন

অনেককেই তাদের চেহারা, তারা যেভাবে কথা বলে বা তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে অসন্তুষ্ট থাকতে দেখা যায়। কারণ তারা সবসময় পত্রিকায় বা টেলিভিশনে দেখে অন্যদের সাথে নিজেদের তুলনা করতে পছন্দ করে। এই চিন্তাগুলো মূল্যহীনতার একটি নিবিষ্ট অনুভূতির দিকে নিয়ে যেতে পারে, এমনকি হতাশা বা মাদকাসক্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতিও বয়ে আনতে পারে। অন্যদের সাথে কথা বলে এবং আপনার অনুভূতি প্রকাশ করার মাধ্যমে আপনি আপনার দুর্বলতা এবং শক্তি উভয়ই ভালভাবে বুঝতে সক্ষম হবেন। আপনি প্রতিদিন পাঁচ মিনিট সময় নিয়ে এমন কিছু গুণাবলী তালিকাভুক্ত করতে পারেন এবং সেই গুনের অধিকারী হতে পারেন যা আপনাকে অনন্য করে তোলে। এটি আপনার মনের নেতিবাচক চিন্তাগুলোকে দূর করবে এবং আপনাকে ইতিবাচক চিন্তা করতে বাধ্য করবে যাতে করে নিজেকে একজন সেরা মানুষ হিসেবে স্বীকার করতে পারবেন।

৮. অন্যদের প্রতি যত্নবান হোন

অন্যের কল্যাণের জন্য চিন্তিত হওয়া উচিত, তারা যেই হোক না কেন। যারা আপনার যত্ন নেয় তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা আপনার দায়িত্ব। এটি হতে পারে কর্মক্ষেত্রের কোনো সহযোগীর খোঁজ নেওয়া বা একজন বয়স্ক আত্মীয়কে ফোন করে জিজ্ঞাসা করা যে তারা কেমন আছেন। একটি পোষা প্রাণীর সান্যিধ্য আপনাকে এই আবেগগুলিকে ক্রমাগত অনুশীলনে সহায়তা করে কারণ আপনি সেই ব্যক্তি যার উপর তার খাদ্য, আশ্রয় এবং ভালবাসার জন্য নির্ভর করে। সত্যিই অন্যদের যত্ন নেওয়া আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করতে পারে এবং আপনার অনুভূতিগুলিকে খুঁজে পেতে সাহায্য করে। আপনি চাইলে সেচ্ছাসেবক হয়েও সম্প্রদায়ের অন্য মানুষগুলোকে সাহায্য করতে পারেন, তাদের সাথে সময় কাটাতে পারেন। অন্যের প্রতি নিজের অনুভূতি থাকতে দেওয়া আপনাকে বুঝতে সাহায্য করে কেন অন্য লোকেরা আপনার জন্য যত্নশীল এবং কেন আপনার নিজের যত্ন নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন:  নবজাতক শিশুর যত্নে করণীয় কাজগুলো। My bangla blog

৯. আপনার মনের ব্যায়াম করুন

আপনার শরীরের অন্যান্য অংশের মতো আপনার মস্তিষ্কেরও সুস্থ থাকার জন্য ব্যায়াম প্রয়োজন। আপনি এটি করতে পারেন বিভিন্ন উপায়ে; কম্পিউটার গেম খেলে কিংবা ক্যালকুলেটরের বিকল্প হিসেবে নিজের ব্রেইনকে কাজে লাগিয়ে। প্রতিদিন একটি করে নতুন শব্দ শেখার চেষ্টা করুন যা আপনার স্মৃতিকে কার্যকরী রাখার একটি ভাল উপায়, যা আপনার বয়স বাড়ার সাথে সাথে দৈনন্দিন জীবনেও সাহায্য করবে। আপনার মন আপনার সবচেয়ে মূল্যবান হাতিয়ার, তাই এটিকে সম্পূর্ণরূপে কার্যকর রাখা সুখী থাকার এবং সক্রিয় জীবন যাপনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

১০. মনে রাখবেন সাহায্য হাতের কাছেই আছে

উপরের সহজ পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করে আপনার নিজের সম্পর্কে আরও ভাল বোধ করতে পারবেন। যাইহোক, যদি আপনি উদ্বিগ্ন, বিষণ্ণ বোধ করেন বা মনে করেন যে আপনি একটি মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন তবে মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে আপনি যেতে পারেন যেখান থেকে আপনি পরিপূর্ণ সহায়তা পাবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আপনি কেমন অনুভব করছেন তা কাউকে জানানো, সে বন্ধু বা পরিবারের সদস্য হতে পারে, কিংবা হতে পারে কোনো পরিষেবা সংস্থা।

Leave a Comment