সকালের নাস্তায় কি খাওয়া উচিত? সকালের নাস্তার উপকারিতা।

সাধারণত আমাদের প্রত্যাহিক কাজের শুরুই হয় সকালের নাস্তা করার মধ্য দিয়ে। অনেকেই বিভিন্ন অজুহাতে সকালের নাস্তা করতে চান না। কিন্তু আপনি সকালে কী খাচ্ছেন তার উপরই অনেকটা নির্ভর করে আপনার সারা দিন কেমন কাটবে। সকালের নাস্তা প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি খরচ করতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

সকালের নাস্তায় কি খাওয়া উচিত? সকালের নাস্তার উপকারিতা

অনেক সময় রাতে খাওয়ার পর সকাল পর্যন্ত দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকতে হয়। তাই সকালে পর্যাপ্ত খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন সকালে ভারী এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে সারাদিন কাজ করার শক্তি পাওয়া যায়। তো প্রথমেই আমাদের জানা উচিত সকালের নাস্তার উপকারিতা গুলো কি কি। তারপর আমরা জানবো সকালের নাস্তায় কোন খাবারগুলো থাকা জরুরি।

সকালের নাস্তার উপকারিতা

শরীরকে সচল রাখে:

সকালের একটু ভারী খাবার শরীরকে সারাদিন কাজে সচল রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটা হজম ও নিয়মিত বিপাক ক্রিয়ায়ও সাহায্য করে। শরীরে শক্তির যোগান দিতে সকালের খাবারেএ কোনো বিকল্প নেই।

খাবারের চাহিদা কমায়:

বাড়তি ক্যালরি এড়ানোর জন্য সকালের নাস্তা বাদ দেওয়া নিত্যান্তি একটি ভুল ধারণা। সকালের খাবারে ফাইবার এবং অন্যান্য প্রোটিন জাতীয় খাবার সারাদিন অন্যান্য খাবারের চাহিদা কমায়। এটি আপনাকে শরীর ঠিক ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন:  AIDS কি? এইচআইভি ভাইরাস কি? এইডস কেন হয়? এইডস এর লক্ষণ এবং করণীয়

সকালের নাস্তায় কি খাওয়া উচিত?

ফল: সকালের নাস্তায় সব চাইতে ভালো খাবার হচ্ছে ফলমূল। আঙুর, আপেল, কলা, কমলা, স্ট্রবেরি ইত্যাদি ফল বা বিভিন্ন মৌসুমি ফলমূল দিয়ে সকালের নাস্তা করা সব চাইতে ভালো। সকালে কি কি ফল খেতে চান তা প্রয়োজন অনুযায়ী ভাগ করে নিন। চাইলে সালাদ হিসেবেও সকালে খেতে পারেন।

সকালের নাস্তায় কি খাওয়া উচিত? সকালের নাস্তার উপকারিতা

ডিম: সকালের নাস্তার অংশ হিসেবে ডিমের জুড়ি মেলা ভার। ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন আর মিনারেল। এটা প্রোটিনের সব চাইতে ভালো উৎস। এতে ক্যালোরিও বেশ কম থাকে। সকালের নাস্তায় প্রত্যেকের  উচিত ডিম খাওয়া। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ সকালে ১ থেকে ২ টি ডিম খেতে পারেন। তবে যারা একটু বেশি স্বাস্থ্যবান তাদের ডিমের কুসুম এড়িয়ে যাওয়া উচিত। তাছাড়া যাদের ডায়াবেটিস জনিত রোগ আছে তাদের ডিম সম্পুর্ন বর্জন করা উচিত। সকালে আপনি ডিম সিদ্ধ করে কিংবা অমলেট হিসেবেও খেতে পারেন।

সকালের নাস্তায় কি খাওয়া উচিত? সকালের নাস্তার উপকারিতা

দুধ: দুধ হচ্ছে সব ধরনের পুষ্টিতে পরিপূর্ণ একটি খাবার। অন্যান্য খাবারের পুষ্টির চাহিদা অনেকটাই পুরণ করতে পারে দুধ। সকালে অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি এক গ্লাস দুধ রাখতে পারেন। পাশাপাশি টক বা  অল্প মিষ্টি দইও শরীরের জন্য অনেক উপকারী। এছাড়াও দুধ জাতীয় খাবার যেমন বাটার, চিজ রাখতে পারেন তবে অবশ্যই পরিমিত পরিমাণের বেশি খাওয়া যাবে না। 

আরও পড়ুন:  ডিপ্রেশন নিয়ে কিছু কথা। হতাশা থেকে মুক্তির উপায়।

সকালের নাস্তায় কি খাওয়া উচিত? সকালের নাস্তার উপকারিতা

ওটস: ওটস খেতে যদিও খুব বেশি ভালো লাগে না তাও এটি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার। এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে যা হজমে সহায়ক। ওজন কমাতে ও কলেস্টোরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওটস খুবই কার্যকরী ভুমিকা পালন করে। সকালে অন্যান্য আজেবাজে খাবার বাদ দিয়ে পরিবর্তে ওটস রাখুন। তবে ফ্লেভারড বা অধিক চিনি যুক্ত ওটমিল না খাওয়াই ভালো।

সকালের নাস্তায় কি খাওয়া উচিত? সকালের নাস্তার উপকারিতা

আটার রুটি: সকালের নাস্তায় আটার রুটি ভাতের বিকল্প হিসেবে খাওয়া যেতে পারে, যেহেতু সকালে একটু ভারী খাবার খাওয়া উচিত। আটার রুটি সবজি, ভাজি বা ডিমের অমলেটের সাথে খাওয়া যেতে পারে যেগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। ভারী খাবার হিসেবে রুটি আমাদের সারাদিন ভালো পরিমাণ শক্তি সরবরাহ করে। তবে সকালে তেলে ভাজা রুটি এড়িয়ে চলা উচিত।

সকালের নাস্তায় কি খাবেন না?

ভাত: সকালে ভারি খাবার খাওয়া ভালো মানে এই নয় যে আপনার ভাত জাতীয় খাবার খেতে হবে। ভাতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে কার্বোহাইড্রেট যা শরীরের ওজন বাড়িয়ে দেওয়া সহ দেহের ক্লান্তি ভাবের জন্য দায়ী। এতে করে মস্তিষ্ক অনেক ধীরে কাজ করে। অতএব সকালের নাস্তায় ভাত না খাওয়াই ভালো।

আরও পড়ুন:  মনকে সুস্থ এবং খুশি রাখার ১০ টি উপায়। 10 ways to be happy

জাঙ্কফুড: চকলেট, কেক, স্যান্ডউইচ, বার্গার ইত্যাদি সকালের নাস্তায় এড়িয়ে চলা উচিত। এইসব উচ্চ ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার শরীরে অনেক জটিলতা সৃষ্টি করে।

সকালের নাস্তায় কি খাওয়া উচিত? সকালের নাস্তার উপকারিতা

তেলে ভাজা খাবার: সকালের নাস্তায় তেলে ভাজা পরোটা, লুচি বা সিঙ্গারা খাওয়া উচিত নয়। কারণ এগুলো খুবই অস্বাস্থ্যকর খাবার। এগুলো শরীরে ফ্যাটের পরিমাণ বাড়ায়, যার ফলে শরীর ভারি হয়ে আসে। অতএব সকালের নাস্তায় তেলে ভাজা খাবার বাদ দেওয়া উচিত।

সকালের নাস্তায় কি খাওয়া উচিত?

কফি: সকালে ঘুম থেকে উঠে একটু চা কিংবা কফি না খেলেই কি নয়? যদি এইরকম অভ্যাস থাকে তাহলে অল্প পরিমানে চা খেতে পারলেও কফিকে না বলুন। প্রয়োজনে চা এবং কফি দুটিই দিনের অন্য সময় খান। কারণ সকালে ঘুম থেকে উঠার পর এমনিতেই পেট খালি থাকে। তাই এগুলো পান না করাই ভালো।

Leave a Comment