পৃথিবীর উচ্চতম হ্রদ টিটিকাকা। Titicaca lake – My bangla blog

টিটিকাকা হ্রদকে বলা হয় বানিজ্যিক ভাবে ব্যবহৃত বিশ্বের উচ্চতম হ্রদ। এই হ্রদটি আলটিপ্লানো নামে পরিচিত একটি মালভূমিতে অবস্থিত যা একাধিক নদীর অববাহিকা দ্বারা গঠিত। হ্রদের পশ্চিম অংশ পেরুর পুনো অঞ্চলে অবস্থিত (লেকের আনুমানিক ৫৬%), আর পূর্ব অংশটি বলিভিয়ার লা পাজে অবস্থিত (লেকের প্রায় ৪৪%)।

পৃথিবীর উচ্চতম হ্রদ টিটিকাকা।
source: wikimedia.org

টিটিকাকা হ্রদ এর ইতিহাস

আয়তনে টিটিকাকা হ্রদ দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম (৮,৩০০ বর্গ কিমি)। ভেনেজুয়েলার মারাকাইবো হ্রদটি বৃহত্তম। টিটিকাকা হ্রদটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,৮২০ মিটার উপরে অবস্থিত। হ্রদের গভীরতম স্থানে এটি প্রায় ২৮৪ মিটার গভীর, যা হ্রদের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত।

হ্রদটি বৃষ্টিপাতের সময় ২৭টি উপনদীতে বিভক্ত হয়ে যায়। ডেসাগুয়াদেরো নদী হ্রদ থেকে প্রবাহিত একমাত্র নদী। এটি টিটিকাকা হ্রদের দক্ষিণ দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে পুপো নামক হ্রদে মিশে যায়।

My bangla blog এর সকল পোস্ট গুগল নিউজে পেতে ভিজিট করুন এখানে Google news

টিটিকাকা হ্রদ জনশূন্য আন্দিজ মালভূমিতে এবং হ্রদের আশেপাশের বসতির মানুষদের পানীয় জল এবং খাদ্যের যোগান দেয়, অর্থাৎ তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হ্রদের গুরুত্ব অপরিসীম। হ্রদের পানি আশেপাশের মাটির উর্বরতা বাড়াতে সাহায্য করে যা সেই উচ্চতায় আলু এবং অন্যান্য শস্য (যব, ভুট্টা এবং কুইনো) চাষে সহায়ক। কৃষিকাজের পাশাপাশি আলপাকাস, লামা, ভেড়া, গরু ইত্যাদি পশুপালনেও হ্রদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও পড়ুন:  সাহারা মরুভূমি: পৃথিবীর উষ্ণতম অঞ্চল

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে টিটিকাকা হ্রদের আশেপাশে আয়মার নামক জাতির ধর্মীয় ও প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল। খ্রিস্টীয় ১৫শ শতকে ইনকা সাম্রাজ্য টিটিকাকা হ্রদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ইনকা আমলে উরুস নামক আদিবাসীরা (যারা আজও বিদ্যমান) ইনকাদের সাথে দ্বন্দ্বের কারণে সেখান থেকে পালিয়ে আশেপাশের কিছু দ্বীপে চলে যায়। উরুসরা তাদের ঐতিহ্যকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়, ফলে আজও তারা সেই দ্বীপগুলিতে বসবাস করে। তারপর একসময় উরুসরা সেই দ্বীপগুলোকে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তুলেছে। এতে করে পর্যটকরা সেই দ্বীপগুলিতে ভ্রমণ করতে পারছে।

আজ আনুমানিক ২০ লক্ষ মানুষ টিটিকাকা হ্রদের নিকটবর্তী এলাকায় বাস করে। হ্রদের তীরবর্তী অঞ্চল এবং সংলগ্ন জমিতে হ্রদের পানি এবং খনিজের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে সেই চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে হ্রদের বৃহত্তর কিছু উপনদীর (রামিস, ইলাভে, কোটা, হুয়ানকেন, সুচেজ এবং কাটারি) পানির প্রয়োজনীয়তা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে, যার ফলে হ্রদের পানির স্তর ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। উপকূল শুকিয়ে যাওয়ার কারণে তা অনেক প্রজাতির প্রানীর আবাসস্থলের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রকৃতি ও প্রানী সংরক্ষণ আইন থাকা সত্ত্বেও সেখানকার অসংখ্য পাখি, মাছ এবং উভচর প্রজাতি সহ বিরল এবং স্থানীয় প্রজাতি আজ হুমকির সম্মুখীন। উদাহরণস্বরূপ, টিটিকাকা গ্রেব নামক পাখি বাসা বাঁধার জায়গার অভাবের কারণে হুমকির সম্মুখীন। সেখানকার ঐতিহ্যবাহী ব্যাঙের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে।

Leave a Comment